বাণিজ্যিক ব্যাংকের অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণভার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে থাকা জরুরি

জাফর আহমদ : রাষ্ট্রায়ত্ত ও দেশি-বিদেশি বাণিজ্যক ব্যাংকগুলোর সত্যিকার অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে থাকা জরুরি বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. আতিউর রহমান। আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পৃথিবীর সব দেশে আলাদা পে-স্কেল আছে। আমরা চেষ্টা করেও পারিনি।
ড. আতিউর বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও সমস্যামুক্ত রাখতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া প্রয়োজন। এখন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ বেশি। তবে বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে সবসময় পেরে ওঠে না। সেই অর্থে এদের ওপর নিয়ন্ত্রণ দরকার।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন এমডি নিয়োগ দেয়। কিন্তু নিয়োগের আগে যদি সরকার বলে দেয়, আমুককে নিয়োগ দিতে হবেÑ এটা কাক্সিক্ষত নয়। যিনি শ্রেষ্ঠ তাকেই নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার বোর্ড গঠন করবেÑ সেটা ঠিক আছে। কিন্তু তা গঠনের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত নিয়ে করা উচিত। এটা স্বায়ত্বশাসন বা স্বাধীনতা যা-ই বলিÑ বাংলাদেশ ব্যাংকের তা থাকা উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে যারা বাণিজ্যিক ব্যাংকে সুপারভিশন করতে যায়, তারা যেন নির্ভয়ে করতে পারে। প্রয়োজন হলে যে ঋণ খেলাপি তাকে ধরবে। এই স্বাধীনতা যেন বাংলাদেশ ব্যাংকের থাকে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আলাদা পে-স্কেল পৃথিবীর সব দেশেই আছে। আমরাও মনে করেছিলাম স্বায়ত্বশাসনের জন্য একটি স্বতন্ত্র পে-স্কেল থাকা উচিত। এ জন্য সরকার রাজি হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীও রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের যারা নীতিনির্ধারকÑ গর্ভনর, ডেপুটি গর্ভনর, তারা সেই অর্থে সরকারি কর্মকর্তা নন। যদিও সরকার নিয়োগ দেয়, তারা এক ধরনের টেকনোক্র্যাট। তাদের অনেক বেশি স্বাধীনতা দরকার। ভারতে আছে, ব্রিটিনে আছে। কিন্তু স্বায়ত্বশাসন মানে সেই অর্থে এমন স্বাধীনতা নয় যে, সরকারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ থাকবে না। বাস্তবে সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগযোগের জন্য ফোরাম আছে। এর নাম কো-অডিশন কাউন্সিল। অর্থমন্ত্রী এর সভাপতিত্ব করেন, গর্ভনর সেখানে মেম্বার। আছেন পরিকল্পনামন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রীসহ আর অনেকে। সবাই মিলে মূল নীতিমালা গ্রহণ করা হয়। তবে মূদ্রানীতি করার সময় সরকার হস্তক্ষেপ করে না, করা উচিতও নয়। এইভাবে মিলে মিশে কাজ করলে দেশের জন্য ভালো হবে।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>