মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া বিদেশে শ্রমিক পাঠনো যায় না: রিয়াজ-উল-ইসলাম

এনামুল হক: মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া বিদেশে শ্রমিক পাঠনো যায় না। মধ্যস্বত্বভোগী শুধু দেশেই নয় বিদেশেও আছে। আর এ মধ্যস্বত্বভোগীদের খুশী করতে শ্রমিকদের পকেট কাটা যায়। টিভিএনএ’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমন তথ্য জানান জনশক্তি রপ্তানী মালিকদের সংগঠন বায়রার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং রিয়াজ ওভারসীজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াজ-উল- ইসলাম। তিনি বলেন, সৌদী আরবের ক্রাউন মোহাম্মদ বিন সালমান অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নতুন করে ট্যাক্স বসিয়েছেন। মাত্র এক বছরের জন্য ওয়ার্ক পারমিট দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। যা প্রতি বছর নির্দিষ্ট ট্যাক্সের বিনিময়ে নবায়ন করতে হবে। এতে ঐ দেশে অভিবাসী শ্রমিকরা সমস্যায় পড়েছেন।
রিয়াজ-উল-ইসলাম বলেন, জনশক্তি রপ্তানী ব্যবসা সফল করতে প্রথমেই সে দেশের মধ্যস্বত্বভোগীদের টাকা দিতে হয়। কারণ তাদের মধ্যমেই আমরা শ্রমিক পাঠানোর কাজ পাই। এরপর আছে দূতাবাস, তারপর নিয়োগকর্তা, তারপর সে দেশের চেম্বার অব কমার্স এবং পররাষ্ট্র দফতরের অনুমতি। এসব দপ্তর থেকে সত্যায়িত হয়ে একটি ডকুমেন্ট বাংলাদেশে আসে। এরপর আমরা মন্ত্রনালয়ে জমা দেই, তারপর জনশক্তি রপ্তানী ব্যুরোতে পাঠানো হয় অনুমোদনের জন্য। এরপর বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে লোক সংগ্রহ করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। এ কাজটি করেন স্থানীয়রা। যাদেরকে আমরা কেউ দালাল আর কেউ মিডল ম্যান বা মধ্যসত্বভোগী বলে থাকি। জন প্রতি তাদের কে দিতে হয় নির্দিষ্ট হারে টাকা। এর পরই একজন শ্রমিক বিদেশ যাত্রা করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক রপ্তানীর বর্তমান চিত্র তুলে ধরে রিয়াজ-উল-ইসলাম বলেন, সৌদি আরব যাওয়ার জন্য বাংলাদেশীদের মধ্যে অনাগ্রহ দেখা দিয়েছে। কারণ সাপ্লাই কোম্পানির অধীনে কাজ করায় শ্রমিকদের ধারণা তাদের প্রাপ্য বেতনের অর্ধেক দেয়া হয়। সাপ্লাই কোম্পানির এ নিয়মের অভিবাসন ব্যয় কমা হওয়া সত্তে¦ও সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও বাহরাইনে শ্রমিকদের যাওয়ার আগ্রহ কম। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও লিবিয়াতে শ্রমিক রপ্তানি বন্ধ আছে। ক’টনৈতিক ভাবে এ দু’টি দেশে শ্রমিক রপ্তানির দ্বার উন্মুক্ত হলে কয়েক লাখ বাংলাদেশীর কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করেন, বায়রার নির্বাহী কমিটির সদস্য রিয়াজ-উল-ইসলাম।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>