মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রপ্তানি সিন্ডিকেটের কবলে : রিয়াজ-উল-ইসলাম

এনামুল হক : মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটের দখলে। মাত্র ১০টি রিক্রটিং এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ করছে সম্ভাবনাময় এ বাজার। এ সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে না পারলে ক্ষতিগ্রস্থ হবে ১২’শ রিক্রটিং এজেন্সি। ওয়ান ষ্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে অন্যান্য এজেন্সিগুলো ১০টি নির্ধারিত এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে পারবে। এমন একটি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে এর সাফলতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। টিভিএনএ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান, রিয়াজ ওভারসীজের ব্যবস্থানা পরিচালক ও বায়রা নির্বাহি কমিটির সদস্য রিয়াজ-উল-ইসলাম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ১৯৮৭ সাল থেকে মালয়শিয়াতে জনশক্তি রপ্তানি শুরু করে। তখন আমাদের তিনশ থেকে চার’শ লাইসেন্স ছিল। সবাই উৎসাহ নিয়ে কাজ শুরু করে। কিন্তু শুরুর দিকে লোক পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন বড় বড় ডেঙ্গু মশা ছিল। এ কারণে মানুষ মায়য়েশিয়া যেতে চাইতো না। পরবর্তীতে যখন মালয়েশিয়া অর্থনীতিতে দক্ষিণ এশিয়ার টাইগার হিসেবে গণ্য হল। তখন তাদের জনশক্তির চাহিদা বেড়ে গেল। তাদের হাজার হাজার কারখানা চালু হলো এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় বড় দেশ থেকে ওয়ার্ক অর্ডার আসতে থাকল। বিশেষ করে ২০০৬, ২০০৭, ২০০৮ সালের কথা আমি উল্লেখ করব। মালয়েশিয়ায় এই তিন বছরে প্রায় ৫ লাখ কর্র্মী গিয়েছিল। পরে ঐ দেশের কিছু নিয়োগ কর্তা, এনজিও এবং আমাদের দেশের কিছু এজেন্সির অতি মুনাফা লোভের কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে মার্কেটটা বন্ধ হয়ে যায়।
রিয়াজ-উল-ইসলাম বলেন, পরে ২০১২-১৩ দিকে দু’দেশের সরকারি পর্যায়ে জি টু জি ভিত্তিতে মার্কেট আবার খোলা হয়। তবে সেটা সফলভাবে কার্যকর না হওয়ায় অচলাবস্থা দেখা দেয়। পরে দু’দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনার ভিত্তিতে জি টু জি প্লাস করে নিয়ে আসা হয়। এখন মালয়েশিয়াতে মাত্র ১০টি এজেন্সি লোক পাঠাতে পারছে। এতে বঞ্চিতরা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। বঞ্চিতদের ক্ষোভ কি করে কমানো যায় বায়রা সে লক্ষ্যে কাজ করছে। ওয়ান ষ্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে অন্যান্য এজেন্সিগুলো ১০টি নির্ধারিত এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে পারবে। এমন একটি প্রক্রিয়া নিয়ে কথা আলোচনা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয় এ প্রক্রিয়া কতটুকু সফল হয়।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>