শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭



‘মোসাদ ষড়যন্ত্র করছে, চমকপ্রদ তথ্য রয়েছে’


নাঈম ভিশন
২২.০৫.২০১৬

rrrনাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী: ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। এই ষড়যন্ত্র আমরা আমরা জেনেছি। এই ব্যাপারে যারা জড়িত আছেন তাদের ব্যাপারেও আমরা জেনেছি। তবে এখনই আমরা সবার নাম তদন্তের স্বার্থে বলতে চাই না। তদন্ত কাজ আরো এগুলে এই ব্যাপারে আমরা বলবো। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে ধারবাহিকভাবে ষড়যন্ত্র চলছে। সেই সম্পর্কে আমরা জানার চেষ্টা করছি। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা যত কিছুই হোক না কেন সব কিছুই আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই পর্যন্ত বাংলাদেশে যত ঘটনা ঘটেছে। আমরা সেই সব ঘটনার পেছনে ও ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইডেন্টিফাই করতে পেরেছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে শনিবার রাতে এক বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকে তিনি এই সব কথা বলেন। এই সময়ে আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নাসিমা খান মন্টি, নির্বাহী সম্পাদক বিশ্বজিৎ দত্তসহ সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ উপিস্থত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মোসাদ ষড়যন্ত্র’র ব্যাপারে আমরা যেসব ঘটনার ব্যাপারে বলেছি সেখানে সঠিক জিনিসটা তুলে ধরেছি। এখনও তথ্য আসছে তা আমরা যাচাই বাছাই করে জানাবো। আসলাম চৌধুরী কেবল এটা নয়। আরো তথ্য চমক পদ আছে। আমরা দেখছি।

সাম্প্রতিককালের হত্যাকান্ডের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রত্যেকটা হত্যাকান্ডের ব্যাপারে অপরাধীদের সনাক্ত করেছি। লিঙ্ক খুঁজলে অনেক কিছু বের হয়ে আসবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোন একটা হত্যাকান্ড ঘটলেই একটি সাইট থেকে দায় স্বীকার করা হয় আইএস এর নামে। এটা কেন করছে তা আমরা বুঝতে পারছি। আসলে আমরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের শিকার হতে যাচ্ছি। মোসাদ যে এখানে কাজ করছে না এটা মনে করা যাবে না। আমরা মনে করি তারা কাজ করছে সক্রিয় ভাবে কাজ করছে। এই জন্য এই সব হচ্ছে। আমরা আরেকটু নিশ্চিত হতে চাই।

বাংলাদেশে মোসাদের গোয়েন্দারা অবস্থান করছে কিনা এই ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেই ব্যাপারে তথ্য রয়েছে।

আইএস এর ব্যাপারে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোন আইএস নেই। এটা বাইরে থেকে যে যত কথাই বলুক না কেন। এখানে যেসব জঙ্গীরা আছে তারা দেশীয়। তারা বিভিন্ন সময় তাদের নাম পরিবর্তন করেছে। কখনও শিবির, কখনো জেএমবি, কখনো বাংলা ভাই, কখনো আনসারুল্লাহ বাংলা টিম কখনো বিভিন্ন নামে তারা কাজ করে চলেছে। এক সময়ে তাদের মূল কাজ ছিলো রগ কেটে দেওয়া।

তিনি বলেন, বিদেশী হত্যাকান্ডের সঙ্গে যারা জড়িত আমরা তাদেরকে চিহ্নিত করতে পেরেছি।

সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের হত্যার ব্যাপারে তিনি বলেন, এক সময়ে ব্লগারদের হত্যা করা হচ্ছিল। পরে তারা দেখলো ব্লগার মারলে হবে না। এরপর তারা ধর্মীয় গুরুদের দিকে নজর দেয় তাদেরকে টার্গেট করে। আর তাদেরকে টার্গেট করে হত্যা করছে। এই ভাবে তারা শিয়া সুন্নী সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা হিসাবে শিয়া মসজিদে বোমা হামলার ঘটনা ঘটায়, ঠাঁকুরগাও, পঞ্চগড়, বান্দরবান, ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে টার্গেট কিলিং করা হচ্ছে। এটা একটা বড় ধরনের ষড়যন্ত্র। তবে আমরা সতর্ক রয়েছি এই ধরনের কোন ষড়যন্ত্র আর বাস্তবায়ন করতে দিবো না।

তিনি জুলহাজ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, চেষ্টা চলছে। তাছাড়া তারা সমাজে যে বিষয়টি ধর্মে নিষেধ। সেই বিষয় তুলে ধরার ও তাদের অনুসারী তৈরি করার চেষ্টা করেছে। তারা ২০০ জনকে তাদের মতাদর্শেও তৈরি করেছে। আমরা সেই চেষ্টাও বন্ধ করে দিয়েছি। তারা সমাবেশ করতে চেয়েছিল কিন্তু সেই সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি। কারণ পহেলা বৈশাকে ওই ধরনের একটি সামবেশ করলে সেখানে বড় ধরনের একটি নাশকতার ঘটনা ঘটতে পারে।

তিনি বলেন, পরেশ বড়–য়া এর আগে বাংলাদেশে বিএনপির কাছ থেকে পৃষ্টপোষকতা পেয়েছে। আমরা আসার পর এই সব বন্ধ করেছি। তিনি ভারতে যাওয়ার পর একটি সংগঠন করার চেষ্টা করেছিলেন। সেটা ভারত সরকার করতে দেয়নি। তারা কিভাবে সেটা নিয়ন্ত্রণ করছে এটা ভারত সরকারই ভাল বলতে পারবে।

কয়েকবছর আগে যদি দেখেন তার ভূমিকা তিনি বিচ্ছিন্নবাদী নেতা। বাংলাদেশ তাকে সহায়তা করতো। আইএসআই তাদেরকে সহায়তা করছিল। সেই অবস্থায় বাংলাদেশ নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কোন দেশের বিচ্ছিন্নতবাদীদের প্রশ্রয় দিবেন না। অন্য দেশে থেকেও কেউ এসে প¦ার্শবর্তী দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী ক্রিয়া কর্ম করবে সেটা হতে দেব না। এর আগে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা আমাদের সীমান্তে ছিলো। সেখানে যেসব অস্ত্র ছিলো সেগুলো আমরা উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর হাতে ভারী অস্ত্র দিয়ে দিয়েছি। ভারত সরকারর সঙ্গে আমাদের একটি ভাল সম্পর্ক রয়েছে। আমরা তথ্য আদান প্রদান করছি। অনুপ চেটিয়ার সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আমরা তাকে ফেরত দিয়েছি। আমাদের এখানে এদের কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না। আমরা শক্ত অবস্থানে রয়েছি।

আসলাম চৌধুরী শিবিরের কর্মী সীতাকুন্ডে সচেষ্ট ছিলেন। তার নামে ৪৭টি জ্বালাওপোড়াও মামলা রয়েছে। তিনি এই মামলায় অভিযুক্ত। তার নামে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। কয়েকটাতে জামিন নিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, খালেদা জিয়া ও বিদেশে বসে যার ইঙ্গিতে বিএনপি চলে তার ইঙ্গিতে তাকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তাতে প্রমাণ করে বিএনপি চায় আমাদের পথ রুদ্ধ করার জন্য। দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। আমাদের নেত্রী বলেছিলেন, তিনি উন্নয়ন দিয়ে বাংলাদেশকে বদলে দিবেন। জনগণও বিশ্বাস করে এই সরকারই দেশকে এগিয়ে নিতে পারছে। বিএনপি যে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে সেই অরাজক পরিস্থিতি থেকে বিশ্বাস ও আশ্বাসের জায়গা তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছেন। তিনি পারবেন।

তিনি বলেন, জনগণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ম্যান্ডেট দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সবগুলো বিচার করছেন ও বাকি বিচার কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা জনগণের প্রত্যাশা ছিল। সেখানে আমরা গেছি। এই বিচার বানচাল করতে অগ্রযাত্রা বন্ধ করার জন্য চেষ্টা চলছে। এটা দেশের মানষও জানে। এই ষড়যন্ত্রগুলো এর বহি:প্রকাশ।

ধারাবাহিক হত্যাকান্ড বন্ধ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর পেছনে রহস্য আছে। কারণ আছে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী চিহ্নিত করেছে। মানুষগুলোকে চিহ্নিত করে ধরে ফেলেছে। এইগুলো আর কত কাল চলবে। তিনি বলেন, এরা যখন অগ্নি সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রে ফেল করে তখন কৌশল পাল্টেছে। টার্গেট হত্যা করছে। এক মাস দেড় মাস ধরে ফলো করে হত্যাকান্ড করছে। এটা ভিন্নতর কৌশল। আমাদের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার জন্য। রায় কার্যকর করার চেষ্টা ব্যর্থ করা।্ পেছনে গেলে দেখা যাবে শিবির তারা রগ কাটতো। সেখান থেকে শুরু। এরপর বাংলাভাইয়ের উত্থান। আরো কত উত্থান হলো। তার গোড়া যদি টানেন সব কিন্তু এক জায়গা। তারা অবস্থান পাল্টে এগিয়ে যাচ্ছে। আগে নিরীহদের টার্গেট করে জঙ্গীরা তাদের দলে আনতো। এখন উচ্চ শিক্ষিতদের মগজ দোলাই করে আনছে।