শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭



আইএসের মতাদর্শরাই জঙ্গি : রুমিন ফারহানা


নাঈম ভিশন
০৭.০৬.২০১৬

44নাঈম ভিশন ডেস্ক : সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, সিরিয়া কিংবা ইরাক থেকে সাদা চামড়ার লোক এসে মানুষ হত্যা করলেই কি আমরা ভাববো দেশে আইএস আছে। আসলে আইএস হচ্ছে একটি মতাদর্শ। সেই মতাদর্শ যারা বিশ্বাস করবে তারাই আইএস জঙ্গি। এই মতাদর্শ আমি বিশ্বাস করলে- আমি আইএস, আপনি বিশ্বাস করলে- আপনিও আইএস।
মঙ্গলবার সকালে দৈনিক আমাদের অর্থনীতির নিয়মিত বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয় বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্র আজ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হচ্ছে। আর এসব সন্ত্রাসী হামলার পেছনে অস্ত্র ব্যবসা রয়েছে। যারা অস্ত্র তৈরি ও বিক্রি করছে তাদেরও বিক্রি বেড়ে গেছে। আবার অস্ত্র তৈরি করে এমন দেশও জঙ্গিদের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে।
রুমিন ফারহানা বলেন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলছেন- আল কায়েদার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া অন্তত ৮ হাজার জঙ্গি বাংলাদেশে এসেছে। তারা এখন বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করছে। তারা যে কোনো সময় বাংলাদেশে বড় ধরনের ঘটনা ঘটাবে। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলছেন, বাংলাদেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি ও এটা প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করার একটা ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশ সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে যে, দেশে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কোনো অস্তিত্ব নেই। তাহলে তার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) কথা সত্য নাকি তথ্যমন্ত্রীর কথা সত্য, এ প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবে জাগে।
ব্লগার হত্যা মামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক অভিজিৎ রায়, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ওয়াশিকুর রহমান বাবু, ব্লগার ও ব্যাংক কর্মকর্তা অনন্ত বিজয় দাস, ব্লগার নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়সহ ৩৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১ জনের চর্জশিট আদালতে দেওয়া হয়েছে। ব্লগার হত্যার পেছনে যাদের হাত রয়েছে তারা তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের দিক থেকে অনেক উন্নত। কিন্তু আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের দিক থেকে পিছিয়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্য কিছু প্রশিক্ষিত বাহিনী গড়ে তুলতে হবে। যারা এসব অপরাধীদের ধরতে সক্ষম হবে।
রুমিন ফারহানা বলেন, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খাতুনকে প্রশিক্ষিত কিলারাই হত্যা করেছে। কারণ ৫০ সেন্ডের মধ্যে ৪টি কোপ ও দুটি গুলি করে পালিয়ে যাওয়া যেনতেন ব্যাপার নয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের হত্যাকা-ের ঘটনাগুলো দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসছে। এসব ঘটনার পর পরেই স্ব^রাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন- এটা জঙ্গি, আল কায়দার কাজ। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলতেন- এসব হত্যাকা-ের পেছনে আইএসের হাত রয়েছে। যখনি যুক্তরাষ্ট্র ও সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ দাবি করা শুরু করল এসব হত্যাকা-ের পেছনে আইএসের হাত রয়েছে তখনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের সুর পাল্টিয়ে বলা শুরু করলেন- বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন আইএসের সাংগঠনিক কোনো অস্তিত্ব নেই। স্পষ্ট করে বলতে চাই, আইএসের কোনো ঘাঁটি বাংলাদেশে নেই। তবে জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র রয়েছে। অর্থাৎ সরকার যখন ভাবছে নিজেরাই জুজুর শিকার হচ্ছে তখনি বলা শুরু করেছে দেশে আইএস নেই।