শনিবার ১৮ অগাস্ট ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » slide » আসামে নাগরিক তালিকা ভারতে জন্য একটি লজ্জার: অধ্যাপক দেলোয়ার হোসাইন



আসামে নাগরিক তালিকা ভারতে জন্য একটি লজ্জার: অধ্যাপক দেলোয়ার হোসাইন


নাঈম ভিশন
১০.০১.২০১৮

এ জেড ভূঁইয়া আনাস : আসামে যে নাগরিক তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে এটা অত্যন্ত দুঃখ জনক এবং বিস্ময়কর। এটার মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। তবে এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার মতো কোন বড় ধরণের সমস্যার তৈরি হওয়ার সম্ভবনা নেই। টিভিএনএ’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক দেলোয়ার হোসাইন।
এ সময় তিনি বলেন, আসাম তাদের রাজ্যের রাজনীতির জন্য এই ইস্যুকে ব্যবহার করছে। ধর্মের ভিত্তিতে, জাতিগত বিভাজনের ভিত্তিতে, আবার বাংলাদেশ-ভারতের জায়গা থেকেও এই বিষয়টি সামনে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। ১৯৫১ সালের পর আসাম ভারতের রাজ্য হিসেবে এই কাজটি করছে। এই কাজটির কোন প্রয়োজন ছিলো না। নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা বাড়তি সুবিধা নেওয়ার জন্যই এই কাজটি করছে। এখানে তাদের রাজ্যের রাজনীতিই মুখ্য বিষয়।
দেলোয়ার হোসাইন বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন একটি অত্যন্ত চমৎকার পর্যায়ে আছে। তবে এই ইস্যুর মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। দু’দেশের সম্পর্কের অবনতি হয় এমন কাজ ভারত করবে না বলে আশা করছি। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, যে সকল অবৈধ বাঙ্গালি ভারতে আছে তাদেরকে ফিরত পাঠানো হবে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তিনি এখন পর্যন্ত এরকম কোন উদ্যোগ নেননি। তাতে বুঝা যায় এর মাধ্যমে স্থানীয় বিজেপি সরকার রাজনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে। যেহেতু রাজ্য সরকারের নিজস্ব কিছু এজেন্ডা থাকে সে হিসেবেই আসাম তাদের নাগরিকদের তালিকা তৈরি করছেন। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার হস্তক্ষেপ সাধারণত করে না। যেমন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও মমতা ব্যানার্জির অনিচ্ছার কারণে তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না। সেভাবেই আসামও চাইবে তাদের এই এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে কিন্তু যেহতু এটি একটি বিতর্কিত ইস্যু। এটা ভারতে জন্য একটি লজ্জার বিষয় হবে। যার কারণে ভারত আন্তর্জাতিকভাবে সমস্যার সম্মুখিন করা হবে। ভারতের নেতৃত্ব স্থানে যারা আছেন যারা ভারতেকে বিশ্ব শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন তারা এটা কখনো হতে দিবেন না।
অধ্যাপক দেলোয়ার বলেন, আসামের সব রাজনৈতিক দল এই ধরণের তালিকার পক্ষে নয়। তাদের অনেক সামাজিক সংগঠনও এর বিরোধিতা করছেন। যার এর বিরোধিতা করেছেন তারা মনে করেন আসামে যারা বসবাস করছেন তারা যদি অবৈধ হয় তাহলে তারা এখানে বসবাস করছে কিভাবে। তারা চাকুরির জন্য আসলে তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদেরকে আগে কেন পাঠিয়ে দেওয়া হয়নি। এখন এসে এই তালিকা প্রণয়ন করে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। সূত্র: টিভিএনএ